শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

দীর্ঘদিন পর বিদেশ থেকে যখন একজন প্রবাসী দেশে ফেরেন তখন একটি বিষয় নিয়ে অনেকেই চিন্তিত থাকেন, আইনানুগ ভাবে কী কী জিনিষপত্র তিনি সাথে করে আনতে পারবেন?

অনেক সময় দেখা যায় বন্ধু বা পরিবারের কারো জন্য শখ করে কিছু এনেছেন যা আইনি অনুমোদন না থাকায় কাস্টম কতৃপক্ষ আটক করে দিলো। কাস্টমস ট্যাক্স দিয়ে সেটি ছেড়ে দেয়ার সিস্টেম থাকলেও অনেক সময় প্রস্তুতি না থাকার কারণে সেটিও সম্ভব হয় না।

বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী শুল্ক না দিয়ে কোন ধরণের জিনিস কী পরিমাণ আনা যায় এবং শুল্ক প্রদান করে কোন ধরণের জিনিসপত্র আনা যায় আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসে তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।

যেখানে বলা হয়েছে- বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের একটি ফর্ম পূরণ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে, যেই ফর্মে ঘোষণা দিতে হবে তারা কোন জিনিস কী পরিমাণে বহন করছেন।

কোনো প্রকার শুল্ক না দিয়ে আনা যাবে যেসব জিনিষ- 

গৃহস্থালীর ব্যবহারের পণ্য: ১০০ গ্রাম ওজন পর্যন্ত স্বর্ণালঙ্কার ও ২০০ গ্রাম ওজন পর্যন্ত রৌপ্যালঙ্কার (এক ধরণের অলঙ্কার সংখ্যায় ১২টির বেশি না হলে)।

ব্যক্তিগত ব্যবহারের ক্রীড়া সরঞ্জাম: টাইপরাইটার, ঘরে ব্যবহারের সেলাই মেশিন, সিলিং ফ্যান ও টেবিল ফ্যান, রাইস কুকার, প্রেশার কুকার, গ্যাস ওভেন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ইলেকট্রিক ওভেন, টোস্টার, স্যান্ডউইচ মেকার, ব্লেন্ডার, ফুড প্রসেসর, জুসার ও কফি মেকার বিদেশ থেকে কোনো অসুস্থ যাত্রী আসলে সেই যাত্রীর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ১৫ বর্গমিটার আয়তন পর্যন্ত কার্পেট।

ইলেকট্রনিক্স পণ্য: সর্বোচ্চ দুইটি মোবাইল ফোন সেট, ক্যাসেট প্লেয়ার, সিডি প্লেয়ার, বহনযোগ্য অডিও সিডি প্লেয়ার, ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ কম্পিউটার, সাথে একটি ইউপিএস’ও আনা যাবে কম্পিউটার স্ক্যানার, প্রিন্টার ও ফ্যাক্স মেশিন পেশাদার কাজে ব্যবহৃত হয় এরকম ক্যামেরা বাদে ভিডিও ক্যামেরা (এইচডি ক্যমেরা, ডিভি ক্যামেরা, বেটা ক্যামেরা) ও ছবি তোলার ডিজিটাল ক্যামেরা, ১৯ ইঞ্চি পর্যন্ত এলসিডি কম্পিউটার, মনিটর ২৯ ইঞ্চি পর্যন্ত প্লাজমা, এলসিডি, এলইডি, সিআরটি টেলিভিশন সর্বোচ্চ চারটি স্পিকারসহ সিডি, ভিসিডি, ডিভিডি, এলডি বা ব্লু ডিস্ক প্লেয়ার।

 

যেসব জিনিস আনতে শুল্ক প্রদান করতে হবে- 

রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজ ৫ হাজার টাকা, উইনডো টাইপ এয়ার কন্ডিশনার ৭ হাজার টাকা, স্প্লিট টাইপ এয়ার কন্ডিশনার (১৮০০০ বিটিইউ পর্যন্ত) ১৫ হাজার টাকা, স্প্লিট টাইপ এয়ার কন্ডিশনার (১৮০০০ বিটিইউ এর বেশি) ২০ হাজার টাকা, ডিশ অ্যান্টেনা ৭ হাজার টাকা, ২৩৪ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণের বার বা পিণ্ড ১০০ গ্রামের পর থেকে প্রতি ১১.৬৬৪ গ্রামে ২ হাজার টাকা হারে, ২৩৪ গ্রাম পর্যন্ত রৌপ্যের বার বা পিণ্ড ২০০ গ্রামের পর থেকে প্রতি ১১.৬৬৪ গ্রামের জন্য ৬ টাকা হারে, পেশাদার ভিডিওর কাজে ব্যবহার হয় এরকম এইচডি, ডিভি, বেটা ক্যামেরা ১৫ হাজার টাকা।

এছাড়া এয়ারগান বা রাইফেল (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে) ৫ হাজার টাকা, ঝাড়বাতি ৩০০ টাকা (প্রতি পয়েন্ট), ডিশ ওয়াশার, ওয়াশিং মেশিন ও কাপড় শুকানোর ড্রায়ার ৩ হাজার টাকা, ৩০ ইঞ্চি থেকে ৬৬ ইঞ্চি বা তার চেয়ে বড় আকৃতির প্লাজমা, এলইডি, এলসিডি টেলিভিশনের ক্ষেত্রে ১০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত শুল্ক দিতে হবে।

 

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: